ম্যাক মিনি ২০২০ রিভিউ, স্পেসিফিকেশন, প্রাইস ইন বাংলাদেশ

ম্যাক মিনি ২০২০ রিভিউ, স্পেসিফিকেশন, প্রাইস ইন বাংলাদেশ

সিলভার কালারবিশিষ্ট ১.৪ ইঞ্চি পুরুত্বের বক্সের মত ডিভাইস যাতে দৃশ্যমান কতগুলো ক্যাবল কানেকশন পোর্ট ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে উপরের পৃষ্ঠে বিদ্যমান কালো উজ্জ্বল চিরাচরিত কোণা খাওয়া আপেলের লোগো আপনাকে মনে করিয়ে দিবে ডিভাইসটির গুরুত্ব এবং কার্যকারিতা।

জ্বী, বলছিলাম অ্যাপল প্রোডাক্ট লাইনআপ এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ অ্যাপল ম্যাক মিনি এর কথা। অ্যাপল ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম ট্রেডিশনাল ডেস্কটপ কম্পিউটারের অল্টারনেটিভ, মিনি ডেস্কটপ নামে পরিচিত এ ডিভাইস নিয়ে আসে বাজারে।

আগে থেকেই চাহিদা এবং সেই সাথে অ্যাপলের কাটিং এজ টেকনোলজির বদৌলতে সেই থেকে এখন পর্যন্ত ম্যাক মিনি পুরো পৃথিবীজুড়ে পোর্টেবিলিটি লাভারদের কাছে ডেস্কটপ অল্টারনেটিভ হিসেবে প্রথম পছন্দ অ্যাপল ম্যাক মিনি।

যদিও এখন পাল্লা দিয়ে অন্যান্য টেক জায়ান্ট কোম্পানি গুলোও দেখতে সুন্দর এবং পাওয়ারফুল মিনি ডেস্কটপ উদ্ভাবন করছে। কিন্তু তাতে বাজারে অ্যাপল ম্যাক মিনি চাহিদায় কোন ভাটা পড়েনি।

বরং সর্বশেষ ২০২০ ম্যাক মিনি তে অ্যাপল উদ্ভাবিত শক্তিশালী সিস্টেম অন চিপ (SoC) M1 Chip এর সংযোজন ম্যাক মিনি এর চাহিদা দ্বিগুন করে তুলেছে।

এর প্রধান কারণ M1 Chip সম্বলিত ম্যাকবুক প্রো, ম্যাকবুক Air কিংবা iMac এর মূল্য তুলনামুলক বেশি। চলুন বাস্তব উদাহরণ থেকে দেখা যাক বিষয়টি। নিচের ছবি গুলো লক্ষ্য করুন,

যেখানে M1 Chip সম্বলিত 8/256 GB Mac mini এর মূল্য 71,900, সেখানে Mac Pro, iMac, Mac Air এর মূল্য যথাক্রমে 123,000; 175,900; 91,900।

এ জন্যে বর্তমান সময়ে যারা কম বাজেটের মধ্যে M1 Chip ব্যবহারের অভিজ্ঞতা লাভ করতে চান, তাদের নিকট ম্যাক মিনি হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা।

তো কেনো আপনি ম্যাক মিনি ব্যবহার করবেন? ম্যাক মিনি নাকি ম্যাকবুক? এছাড়াও ম্যাক মিনি পার্ফরমেন্স, বেঞ্চমার্ক রিপোর্টসহ আরো অনেক কিছু নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা সাজানো হয়েছে। তো চলুন দেখে নেয়া যাক।

লেটেস্ট ম্যাক মিনি ২০২০ পরিচিতি

ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, অ্যাপল ২০২০ সালের নভেম্বরে লাস্ট ম্যাক মিনি লঞ্চ করেছিলো যেটা ছিলো M1 based।

নিঃসন্দেহে M1 Chip উদ্ভাবন অ্যাপলের জন্য ছিলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে অ্যাপল কম্পিউটার প্রসেসরের বাজারে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পূর্বে অ্যাপল ম্যাক ডিভাইস গুলোতে Intel কিংবা AMD প্রসেসর ব্যবহার করা হলেও এখন থেকে দেখা যাবে শুধুমাত্র অ্যাপলের নিজের তৈরী M1 সিরিজের প্রসেসর।

সম্প্রতি M1 Chip এর উত্তরসূরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে M1 Pro এবং M1 Max SoC এর যা পূর্বসুরী M1 থেকে কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী।

বলা বাহুল্য যে, M1 Max বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী SoC। যদিও ম্যাক মিনি তে এখনো নতুন দুটি প্রসেরসরের অভিষেক ঘটেনি, তবে আশা করা যায় ২০২২ এর প্রথম দিকেই বাজারে চলে আসবে mac mini with M1 Pro/M1 Max।

যাই হোক, পারফর্মেন্স এবং এফিসিয়েন্সির দিক থেকে M1 mac mini ম্যাক প্রো/Air অপেক্ষা কোন অংশে কম নয়। আলোচনার পরবর্তী অংশে আমরা দেখবো M1 ম্যাক মিনি এর সিনেবেঞ্চ এবং গিকবেঞ্চে সিংগেল এবং মাল্টিকোর স্কোর।

আপাতত চলুন এক পলকে দেখে নেয়া যাক, ম্যাক মিনি ২০২০ এর ফুল স্পেসিফিকেশন,

ModelMac mini-2020
Dimension1.4×7.7×7.7 inches
ColorSilver
ChipM1 Chip (8-core CPU with 4 performance cores and 4 efficiency cores; 8-core GPU; 16-core Neural Engine)
Memory8Gb/16 GB
Storage256GB/512GB configurable up to 2 TB
Connections2 thunderbolt/USB 4 ports; 2 USB A ports; HDMI 2.0; Ethernet; 3.5mm headphone jack
Wi-fi802.11ax Wi-Fi 6 wireless networking IEEE 802.11a/b/g/n/ac compatible
BluetoothBluetooth 5.0 wireless technology
AudioBuilt-in speaker HDMI 2.0 port supports multichannel audio output
Display supportMax 2 display support

কিভাবে ম্যাক মিনি সেটাপ করবেন?

এই মুহুর্তে আমাদের হাতে থাকা ম্যাক মিনি ২০২০ ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে পর্যালোচনা করবো। এটি ২০২০ মডেলের M1 ম্যাক মিনি যার সাথে কানেক্ট করা হয়েছে ২২” HP M22f মডেলের IPS মনিটর। ডিসপ্লেটি VGA এবং HDMI কানেকশন সাপোর্ট রয়েছে।

যেহেতু ম্যাক মিনি ২০২০ এ HDMI 2.0 কানেকশন পোর্ট আছে সেহেতু আমরা HDMI ক্যাবলের মাধ্যমে ডিভাইসটির সাথে ডিসপ্লে তে কানেকশন সম্পন্ন করা হয়েছে।

যদি আপনার ডিসপ্লে Thunderbolt/USB 4 সাপোর্ট করে থাকে তাহলে অবশ্যই অবশ্যই এর মাধ্যমে কানেকশন সম্পন্ন করবেন।

এছাড়াও আপনি যে কোন টিভি/ডেস্কটপ মনিটরের সাথে ম্যাক মিনি সেটাপ করতে পারবেন যদি এতে HDMI/DisplayPort/Thunderbolt সংযোগ থাকে। টিভি স্ক্রিনের সাথে কানকশন দেয়ার ক্ষেত্রে মিনি-ডিসপ্লেপোর্ট-টু-ভিজিএ অ্যাডাপ্টার এর প্রয়োজন হতে পারে।

ডিসপ্লে কানেক্ট করার পর এবার পাওয়ার কানেকশন দেবার পালা। সঠিকভাবে পাওয়ার প্লাগ করার জন্য ম্যাক মিনির সাথে প্রাপ্ত পাওয়ার কর্ডটির এক প্রান্ত ম্যাক মিনিতে প্লাগ করুন এবং অন্য প্রান্তটি আপনার পাওয়ার আউটলেটে প্লাগ করুন৷

এরপর আপনার ম্যাক ডিভাইসের পিছনে থাকা পাওয়ার বাটন টি প্রেস করুন। ব্যস, চালু হয়ে গেলো ম্যাক মিনি। চালু হবার পর সর্বপ্রথম যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তা হলো, ইন্টারনেট/ওয়াইফাই সংযোগ দেয়া।

ম্যাক মিনি চালু হবার পর কিছু কিছু ফিচারস রান করার জন্য (যেমন অ্যাপল আইডি কানেক্ট করা) ওয়াইফাই আবশ্যক। সেজন্য পাওয়ার প্লাগ এর পর পরই ওয়াইফাই কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে।

সঠিকভাবে সেটাপ করা হয়ে গেলে আপনি আপনার ম্যাক মিনি যাত্রা শুরু করতে পারেন।

ম্যাক মিনি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা

লাইট, পোর্টেবল, এবং প্রিমিয়াম লুকের জন্য ম্যাক মিনি বর্তমান সময়ে সবার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যেমন খুশি তেমন সেটাপ করা যায় বলে অনেকেই ডেস্কটপ বিল্ড আপ করার পরিবর্তে এধরনের মিনি কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

যদিও এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর নিজের ইচ্ছেমতো এসেসরিজ ব্যবহার করে বিল্ডাপ করার সুযোগ থাকে না। তারপরেও বর্তমান বাজারে ইন্টেল, রেজার, ডেল, এইচপি, লেনোভোর মত ল্যাপটপ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী গুলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গেমিং, অথবা হেভী ওয়ার্ক কম্প্যাটিবল মিনি ডেস্কটপ তৈরী করছে যা একটি ভালো দিক।

তবুও এসব থেকে অ্যাপল ম্যাক মিনি সম্পূর্ন ব্যাতিক্রম। কারণ ম্যাক মিনি পরিচালিত হয় ম্যাকিনটশ অপারেটিং সিস্টেমে অন্যদিকে সাধারন মিনি পিসি গুলো পরিচালিত হয় উইন্ডোজ সিস্টেমে।

তাই আপনি যদি স্পেসিফিক ভাবে ম্যাকিনটশ অপারেটিং এনভাইরনমেন্টে কাজ করতে চান তাহলে ম্যাক মিনি বেস্ট অপশন।

তো চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক ম্যাক মিনি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাগুলো,

সুবিধা

ম্যাক মিনি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা দুটি দিকই রয়েছে। সাধারণত ল্যাপটপ/ডেস্কটপ কেনার সময় আমরা অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করি যেমনঃ বাজেট, কম্প্যাটিবিলিটি, পার্ফরমেন্স ইত্যাদি।

তবে যারা পোর্টেবিলিটি প্রাধান্য দেয় বেশি তাদের জন্য ল্যাপটপ বেস্ট। অ্যাপল ম্যাক মিনি ২০২০ বাজেট, কম্প্যাটিবিলিটি, পার্ফরমেন্স সব দিক থেকেই আপনার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।

এমনকি যদি আপনি প্রফেশনাল কাজের জন্যে যেমনঃ ফটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং, প্রোগ্রামিং, ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি কাজেও ম্যাক মিনি ব্যবহার করতে পারবেন কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই।

কারণ ২০২০ M1 Mac Mini এর পার্ফরমেন্স নিয়ে কোন কথা হবে না। আলোচনার পরের অংশে ম্যাক মিনি এর সিংগেল এবং মাল্টিকোর সিপিউ বেঞ্চমার্ক স্কোর দেখানো হবে যাতে এর পার্ফরমেন্স নিয়ে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়।

এছাড়াও ম্যাক মিনি ব্যবহারে যেসকল সুবিধা পাওয়া যাবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো,

➤ বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ পার্ফরম্যান্স প্রদানের উপযোগিতা ।

➤ ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম উপযোগি সফটওয়্যার ছাড়াও উইন্ডোজ এপ্লিকেশন গুলোও ব্যবহারযোগ ।

➤ বিপুল পরিমাণ অ্যাপল সফটওয়্যার কালেকশন ব্যবহারের সুযোগ ।

➤ ওয়াইফাই ৬

➤ বহনযোগ্য, খুব সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়া যায় যা ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিশ্রমসাধ ।

➤ পূর্বের তুলনায় দাম অনেক কম এমনকি অন্যান্য ম্যাক প্রো এবং ম্যাক এয়ার থেকেও কম যা ইতোমধ্যেই দেখানো হয়েছে ।

➤ নয়েজ ফ্রি সাইলেন্ট অপারেশন

অসুবিধা

এত এত সুবিধার পাশাপাশি ম্যাক মিনি ২০২০ এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে, যেমনঃ

➤ ইন্টেল মডেলের তুলনায় কম থান্ডারবোল্ট পোর্ট

➤ ম্যাক্স ১৬ জিবি র‍্যাম ভ্যারিয়েন্ট ব্যবহারযোগ্য

➤ এক্সটারনাল জিপিউ সাপোর্ট করে না

➤ কেনার পর চাইলেও র‍্যাম/স্টোরেজ আপগ্রেড করতে পারবেন না অর্থাৎ আফটারমার্কেট আপগ্রেড সাপোর্ট করে না

➤ তবে কেনার সময় চাইলে র‍্যাম ১৬ জিবি এবং স্টোরেজ 512GB, 1TB, or 2TB পর্যন্ত কাস্টোমাইজ করা যাবে যা একটু ব্যয়সাধ্য

ম্যাক মিনি বেঞ্চমার্কস

এতক্ষন ধরে কেবল জেনে এসেছি পার্ফরমেন্সের দিক দিয়ে ম্যাক মিনি বেস্ট। তবে কতটা ভালো? এ পর্যায়ে সেটাই আপনাদেরকে দেখাতে যাচ্ছি।

বেঞ্চমার্ক রেসাল্ট/স্কোর সম্পর্কে আশা করি সবারই ধারনা আছে। গিকবেঞ্চ ৫ এ M1 ম্যাক মিনি ২০২০ সিপিউ পারফর্মেন্স স্কোর ফর সিংগেল কোর ১৭৪৭ যেখানে ১৩” ম্যাকবুক প্রো ২০২০ এর স্কোর ১৭৪৯ এবং ম্যাক এয়ার এর ১৭৩৪।

অন্যদিকে, মাল্টিকোর এর ক্ষেত্রে ম্যাক মিনি এর স্কোর ৭৬৯০ যা ১৩” ম্যাকবুক প্রো ২০২০ থেকে একটু কম এবং ম্যাক এয়ার থেকে কিছুটা বেশি।

এছাড়াও জেটস্ট্রিম ২, WebXPRT 3 এবং Basemark web 3.0 স্কোর বিবেচনা করলে দেখা যায় ম্যাক মিনি এর পার্ফরমেন্স স্কোর ১৩” ম্যাকের তুলনায় কিছুটা বেশি।

সুতরাং, এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় পার্ফম্যান্সের দিক দিয়ে ম্যাক মিনি ২০২০ পুরোপুরি আপোষহীন। যা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র M1 Chip ইন্টিগ্রেশনের কারণে।

ম্যাক মিনি প্রাইস ইন বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অথরাইজড/আনঅথরাইজড অনেক কম্পিউটার শপ বর্তমানে অ্যাপলের প্রোডাক্ট সেল করে থাকে। তাদের কাছ থেকেই আপনি পেতে পারেন ম্যাক মিনি ২০২০ এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টস।

এছাড়াও আপনি চাইলে MC Solution BD এর ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসেই কিনতে পারেন যে কোন ম্যাক মিনি বেজ/কাস্টমাইজ মডেল।

নিচে ম্যাক মিনি M1 2020 এর বিভিন্ন মডেলের বর্তমান মূল্য দেওয়া হলো-

ইন্টেল সাপোর্টেড এপ্লিকেশনগুলো কি ম্যাক মিনি তে চালানো সম্ভব?

হ্যা সম্ভব, অ্যাপল ২০২০ M1 Mac Mini তে বড় ধরনের যেসকল পরিবর্তন এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো macOS Big Sur (MacOS version 11) এবং Rosetta 2।

আমরা সবাই জানি যে, অ্যাপল তাদের নিজস্ব ARM Based M1 SoC তৈরীর পূর্বে ইন্টেল প্রসেসরের উপর নির্ভরশীল ছিলো। তখন উইন্ডোজ এপ্লিকেশনগুলো ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম এনভাইরনমেন্টে রান করার জন্য আলাদা ইমুলেশন সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হতো যেমন Parallel Desktop, VMware Fusion ইত্যাদি।

এসকল ইমুলেশন সফটওয়্যার ম্যাক এনভাইরনমেন্টে Windows Virtual System তৈরী করে ব্যবহারকারীকে উইন্ডোজ এপ্লিকেশন চালাতে সাহায্য করে।

কিন্তু ২০২০ M1 Mac Mini তে ইমপ্লিমেন্ট করা হয়েছে Rosetta 2 যাকে আপনি অ্যাপলের নিজস্ব ইমুলেটর/ডাইনামিক বাইনারি ট্রান্সলেটর বলতে পারেন।

অ্যাপল Rosetta এর প্রথম সংস্করণ নিয়ে আসে ২০০৬ সালে এবং ২০২০ এ এর দ্বিতীয় ভার্সন Rosetta 2 এর সাথে পরিচয় ঘটায় যা ইতোমধ্যেই ভালো পার্ফরমেন্স দেখিয়ে ব্যপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

যেসকল এপ্লিকেশন Intel x86 হার্ডওয়্যার এ ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, Rosetta 2 সেগুলো ট্রান্সলেট করে ARM-based M1 প্রসেসরে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।

এবং কিছু বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট অনুযায়ী x86-64 প্রোগ্রামগুলি Rosetta 2 এর অধীনে ইন্টেল ম্যাক অপেক্ষা M1 ম্যাক এ ভালো পার্ফরমেন্স প্রদান করে।

তো আপনার ম্যাক মিনি টি ইন্টেল/M1 যাই হোক না কেন, আপনি অবশ্যই ইন্টেল/উইন্ডোজ এপ্লিকেশন এতে চালাতে পারবেন।

কতগুলো ডিসপ্লে কানেক্ট করা যায় একটি ম্যাক মিনি তে?

২০২০ M1 Mac Mini তে আপনি একইসময় ভিন্ন রেজ্যুলেশনের দুটি মনিটর/এক্সটারনাল ডিসপ্লে কানেক্ট করতে পারবেন।

এর মধ্যে বিদ্যমান থান্ডারবোল্ট পোর্ট 6K রেজ্যুলেশনের 60Hz ডিসপ্লে সাপোর্ট করে এবং এর HDMI 2.0 ভিডিও আউটপুট পোর্ট 4K রেজ্যুলেশনের 60Hz ডিসপ্লে সমর্থন করতে পারে।

mac-mini-vs-imac

ম্যাক মিনি/ iMac?

ম্যাক মিনি এবং iMac অ্যাপলের দুটি অনবদ্য সৃষ্টি। পুরো পৃথিবীজুড়েই ম্যাক মিনি এবং iMac এর সেপারেট ফ্যানবেজ রয়েছে যাদের কাছে ম্যাক মিনি/iMac অলটাইম ফ্যাভারিট।

অ্যাপল ইতমধ্যেই তাদের দ্য অল ইন ওয়ান iMac লাইনআপে সফলভাবে M1 ট্রাঞ্জিশন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান বাজারে ৪ টি ভিন্ন কালারে ২৪” M1 Chip iMac এভেইলেবল রয়েছে।

iMac মুলত একটি ফুল পিসি সেটাপ সরবরাহ করে যাতে আপনি পাচ্ছেন একটি ২৪” ডিসপ্লে, অ্যাপল ম্যাজিক মাউস এবং ম্যাজিক কি-বোর্ড।

বলা বাহুল্য যে, iMac এর ২৪” ডিসপ্লের অভ্যন্তরেই এর সকল কলকব্জা অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদিও এর পুরুত্ব মাত্র ১১.৫ মিলিমিটার আর এখানেই অ্যাপল তাদের শৈল্পিক কারুকার্য এবং হাই এন্ড টেকনোলোজির সমন্বয় ঘটিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, যেহেতু বর্তমানে এভেইলেবল iMac এবং Mac Mini দুটোই M1 ইন্টিগ্রেটেড, সুতরাং দুটোর মধ্যে একটি সিলেক্ট করতে বলা হলে আপনি কোনটা করবেন?

এটা নির্ভর করে আপনার পছন্দ এবং বাজেটের উপর। এখানে উল্লেখ্য যে, iMac এর স্টার্টিং প্রাইস ১৭৫,০০০+। অন্যদিকে ম্যাক মিনি অনলি ৭০,০০০+।

এখন কথা হলো, যদি আপনার পছন্দের স্পেসিফিক কোন ডিসপ্লে, কী-বোর্ড এবং মাউস থাকে যার সাথে আপনি অ্যাপলের M1 প্রসেসরের সংযোগ ঘটিয়ে অ্যাপল ইউজারদের খাতায় নাম লেখাতে চান তো আপনার জন্য ম্যাক মিনি ঠিক আছে।

আর যদি আপনার বাজেট থাকে এবং সম্পূর্ণ অ্যাপল সেটাপ নিতে চান তাহলে ক্যান্ডি কালার বিশিষ্ট iMac 24” কেনাটাই যুক্তিসংগত।

২০২২ সালে নতুন ম্যাক মিনি আসবে?

অ্যাপল সর্বশেষ ২০২০ এর শেষের দিকে M1 Mac Mini উম্নোচন ঘটায় এবং এরপর থেকে পুরো ২০২১ জুড়েই রিউমার শোনা যাচ্ছিল যে, ২১ এর শেষে অ্যাপল নতুন প্রসেসর সম্বলিত Mac Mini লঞ্চ করতে পারে।

তবে ১৮ অক্টোবর, ২০২১ এ সংঘঠিত হওয়া অ্যাপল ‘Unleashed event’ ম্যাক মিনি ব্যবহারকারীদের আশাহত করেছে। উক্ত ইভেন্টে নতুন প্রসেসর বিশিষ্ট ১৪” এবং ১৬” ম্যাকবুক প্রো রিলিজ হলেও ছিলো না নতুন কোন ম্যাক মিনি।

তবে রিউমার শোনা যাচ্ছে যে, ২০২২ এ অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপল ইভেন্টে নতুন প্রসেসর বিশিষ্ট ম্যাক মিনি রিলিজের সম্ভাবনা রয়েছে যাতে থাকতে পারে M1 Pro/M1 Max/M2 SoC। 

ম্যাক মিনি এর RAM/Storage আপগ্রেড করতে পারবো?

হ্যা পারবেন তবে সেটা কেনার সময়ই অফিশিয়ালি কাস্টমাইজ করে নিতে হবে। অর্থাৎ কেনার পর বহির্গত ভাবে আপনি আপগ্রেড করতে পারবেন না। ইতোমধ্যেই আমরা ম্যাক মিনি এর বেজ এবং কাস্টমাইজ ভ্যারিয়েন্টগুলোর মূল্য সম্পর্কে জেনেছি।

আপনি যদি উল্লেখিত কাস্টমাইজ মডেলগুলোর মধ্যে কোনটি কিনতে চান তাহলে আজই প্রি অর্ডার করুন MC Solution BD তে। আপনার অর্ডার করা যে কোন কাস্টমাইজ ম্যাক মিনি ৭ – ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে MC Solution BD।

আর সাথে ৭ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি এবং ১ বছরের অ্যাপল ইন্টারন্যশনাল ওয়ারেন্টি তো থাকছেই। সুতরাং আর দেরী কেন?

MC Solution BD

Leading Retail Laptop Shop in Bangladesh

Leave a Reply

Quit Menu
×